অলিগোস্পার্মিয়া হলো পুরুষের প্রজননসংক্রান্ত একটি অবস্থা, যেখানে বীর্যে শুক্রাণু স্বাভাবিক পরিমাণের চেয়ে কম উপস্থিতি থাকে।
সাধারণত, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) মতে, প্রতি মিলিলিটার বীর্যে শুক্রাণুর সংখ্যা ১.৫ মিলিয়নের (১ কোটি ৫০ লাখ) কম হলে তাকে অলিগোস্পার্মিয়া বলা হয়। বীর্যে শুক্রাণুর সংখ্যা কম থাকার কারণে স্বাভাবিক উপায়ে সন্তান ধারণ বা পিতৃত্ব অর্জনে জটিলতা হতে পারে। প্রধান কারণসমূহ অলিগোস্পার্মিয়া বিভিন্ন শারীরিক, জীবনযাত্রাগত বা পরিবেশগত কারণে হতে পারে: হরমোনজনিত সমস্যা: টেস্টোস্টেরন বা অন্যান্য প্রজনন হরমোনের ভারসাম্যহীনতা। অণ্ডকোষের সমস্যা: ভেরিকোসিলি (অণ্ডকোষের শিরা ফুলে যাওয়া), অণ্ডকোষে আঘাত, সংক্রমণ বা অণ্ডকোষের তাপমাত্রা অতিরিক্ত বৃদ্ধি পাওয়া। জীবনযাত্রার অভ্যাস: অতিরিক্ত ধূমপান, মদ্যপান, ড্রাগস বা নিয়মিত অতিরিক্ত টাইট পোশাক পরা (যা অণ্ডকোষের তাপমাত্রা বাড়ায়)। চিকিৎসা বা ওষুধ: ক্যানসারের চিকিৎসা (কেমোথেরাপি বা রেডিয়েশন) কিংবা দীর্ঘমেয়াদী কিছু নির্দিষ্ট ওষুধ সেবন। জেনেটিক বা জিনগত কারণ: ক্রোমোজোমের অস্বাভাবিকতা (যেমন ক্লাইনফেল্টার সিন্ড্রোম)। অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও স্থূলতা: অতিরিক্ত ওজন এবং দীর্ঘমেয়াদী মানসিক অবসাদ হরমোনে প্রভাব ফেলতে পারে। লক্ষণ অলিগোস্পার্মিয়ার নিজস্ব সুনির্দিষ্ট কোনো বড় শারীরিক উপসর্গ থাকে না। তবে প্রধান এবং একমাত্র লক্ষণ হলো বন্ধ্যত্ব বা সন্তান জন্মদানে অক্ষমতা। কিছু ক্ষেত্রে হরমোনের তারতম্যের কারণে যৌন ইচ্ছা হ্রাস পাওয়া বা মুখ ও শরীরের পশম কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। নির্ণয় ও পরীক্ষা চিকিৎসকরা সাধারণত নিচের পরীক্ষাগুলোর মাধ্যমে এটি শনাক্ত করে থাকেন: সিমেন অ্যানালাইসিস (Semen Analysis): বীর্যের নমুনা পরীক্ষা করে শুক্রাণুর ঘনত্ব, গতিশীলতা এবং আকৃতি দেখা হয়। হরমোন পরীক্ষা: রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে টেস্টোস্টেরন এবং অন্যান্য হরমোনের মাত্রা মাপা হয়। আল্ট্রাসাউন্ড: স্ক্রোটামের আল্ট্রাসাউন্ড করে ভেরিকোসিলি বা অন্য কোনো অভ্যন্তরীণ সমস্যা আছে কিনা তা দেখা হয়। প্রতিকার ও চিকিৎসা অমরত্বের বা স্থায়ী সমাধানের জন্য কারণ অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হয়: জীবনযাত্রার পরিবর্তন: স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, নিয়মিত ব্যায়াম করা, ধূমপান ও অ্যালকোহল বর্জন করা। ওষুধ ও হরমোন থেরাপি: হরমোনের ঘাটতি থাকলে ওষুধ বা থেরাপির মাধ্যমে তা ঠিক করা হয়। সার্জারি: ভেরিকোসিলি বা অন্য কোনো গঠনগত সমস্যা থাকলে সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে। সহকারী প্রজনন প্রযুক্তি (ART): প্রাকৃতিক উপায়ে সন্তান না হলে আইইউআই (IUI) বা আইভিএফ (IVF)-এর মতো আধুনিক পদ্ধতির সাহায্য নেওয়া যেতে পারে।